Posted in

‘আমি যা চাই, তা পাবো’—দেশের মাটিতে বিদায় নিয়ে আশাবাদী সাকিব

দেশের মাঠে সাকিব আল হাসানকে বিদায় দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার একাধিকবার ঘরের মাঠে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এবার আরও একবার অধরা স্বপ্ন পূরণের কথা বললেন সাকিব।

মুম্বাইয়ে ইইউ টি২০ বেলজিয়াম ইভেন্টে জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসময় নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান-ভবিষ্যত সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এই অলরাউন্ডার। দেশে ফিরে একটি টেস্ট খেলে বিদায় নিতে চান কি না এমন প্রশ্নে সাকিব সবকিছু ছেড়ে দেন সময়ের কাছেই।

সাকিব বলেন, ‘সেটা না হয় পরে দেখা যাবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আজ হোক বা কাল পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই ঠিক হয়ে যায়। আমি আশাবাদী, আমি যা চাই (সম্মানজনক বিদায়), তা পাবো।’

এর আগেও তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে ফেরানোর কথা বলেছিলেন সদ্য ভেঙে যাওয়া বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবরও। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় সাকিবের ফেরা বারবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

২০২৪ সালে ভারত সফরের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে সাকিব। তবে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিতই খেলে বেড়াচ্ছেন সাকিব। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সাকিব দেশকে মিস করা নিয়ে বলেন, ‘আমি তো দেশের জন্য অনেক খেলেছি। এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সময়।’

বাংলাদেশ দলের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ তারকাদের নিয়েও আশার কথা শোনান সাকিব। তাঁর মতে বাংলাদেশ আর আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দল হয়ে খেলা শিখেছেন লিটন দাস-মেহেদী হাসান মিরাজরা, ‘একটা সময় বাংলাদেশ দল ব্যক্তি-নির্ভর ছিল, কিন্তু এখন দল হিসেবে তারা দারুণ খেলছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ই তার প্রমাণ। এখন আর আগের মতো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক খেলা নেই, বরং পুরো দল মিলে পারফর্ম করছে—এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ।’

তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘নাহিদ রানাকে আমাদের খুব যত্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সে এখনো অনেক তরুণ। ওর প্রতিভা আর মানসিকতা অসাধারণ, তবে সঠিক নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। যদি তাকে ঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে সে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *