Posted in

ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়ানোর প্রাথমিক চুক্তি করেছিল বার্সা

রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের মধ্যমণি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিতে গত আট মৌসুমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান হয়ে উঠেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা। রিয়ালের দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রজেক্টে’ ভিনিই যে প্রাণভোমরা সেটা সবারই জানা। অথচ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার হয়েই নাকি এতদিন মাঠ মাতানোর কথা ছিল ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গাররের।

বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে বার্সার একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। ভিনিসিয়ুস যখন ব্রাজিলে খেলছিলেন, তখনই কাতালান ক্লাবটি তাঁর পরিবার এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে এই চুক্তিতে পৌঁছায়। বার্সা এই ব্রাজিলীয় তরুণকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং খুব দ্রুতই তাঁর স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বার্সেলোনার সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়। মূলত রিয়ালের সেই লোভনীয় প্রস্তাবের কারণেই ভিনিসিয়ুস ন্যু ক্যাম্পে না গিয়ে শেষ মুহূর্তে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকেই নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।

রিয়াল মাদ্রিদ কীভাবে এই দৌড়ে জয়ী হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বার্তোমেউ।  ২০১৭ সালের মে’তে রিয়াল এবং ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী ভিনিকে দলে ভেড়ানোর জন্য। নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে তাঁর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এই দলবদল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। বার্তোমেউ নিশ্চিত করেছেন, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে বার্সেলোনা তাঁর সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছিল।

ইএসপিএন দেপোর্তেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ বলেন, 

‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আমাদের (বার্সেলোনা) পছন্দের তালিকায় ছিলেন। আমরা তাঁর পরিবার এবং এজেন্টদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাথমিক সমঝোতাও হয়ে গিয়েছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদ সম্ভবত বার্সেলোনার চেয়ে আরও ভালো প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভিনিসিয়ুসকে লুফে নিয়েছিল।’

সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপই বদলে গেল। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে ভিনিসিয়ুস ‘লস ব্লাঙ্কোসদের’ হয়ে নিজের আট মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭২টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, যেখানে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৭টি এবং অ্যাসিস্ট ১০০টি। রিয়ালের লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে পালন করেছেন মুখ্য ভূমিকা; যার মধ্যে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলটি স্বরণীয় হয়ে থাকবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *