আগামী ২২ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। দু’টেস্টের এই সিরিজ় দিয়েই নতুন মরসুম শুরু করতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। সামনের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হবে ২০টি টেস্ট এবং ১৪টি সাদা বলের ম্যাচ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঠাসা এবং গুরুত্বপূর্ণ সূচি অস্ট্রেলিয়ার। তার মধ্যেই হবে আইপিএল। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জস হেজ়লউডের মতো অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারেরা আইপিএলের বিভিন্ন দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই ক্রিকেটারদের ক্লান্তি এবং চোট আঘাতের সম্ভাবনার বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডকে। আগামী আইপিএলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন তিনি।
আগামী ২২ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। দু’টেস্টের এই সিরিজ় দিয়েই নতুন মরসুম শুরু করতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। সামনের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হবে ২০টি টেস্ট এবং ১৪টি সাদা বলের ম্যাচ। রয়েছে বর্ডার-গাওস্কর ট্রফি, অ্যাশেজ় সিরিজ়, টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো গুরুতবপূর্ণ সূচি। তার পর ২০২৭ সালের অক্টোবরে এক দিনের বিশ্বকাপ। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় এবং টেস্ট বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্যে হবে আইপিএল। ফলে কিছুটা উদ্বিগ্ন ম্যাকডোনাল্ড।
এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার কোচ বলেছেন, ‘‘এখন থেকেই লোকজন আইপিএল নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। জানি, সকলেই আইপিএলের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাদের বেশ ঠাসা সূচি রয়েছে। তাই আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনায় আইপিএলকেও রাখতে হয়েছে। আমাদের অনেক ক্রিকেটারই আইপিএল খেলে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরা খেলে। নিঃসন্দেহে আইপিএল এখন বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা। খেললে আমাদের ক্রিকেটারাও উপকৃত হবে। তাই আইপিএলকে পরিকল্পনা থেকে বাদ রাখা যায় না। তবে আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।’’
ম্যাকডোনাল্ডের মূল উদ্বেগ জোরে বোলারদের ধকল। তিনি বলেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ক্রিকেটের মধ্যে এখন একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের জোরে বোলারদের জন্য ভাবতেই হবে। টানা এত খেলার মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমি তো ২০টা টেস্টেই আমার বোলারদের সম্পূর্ণ তরতাজা ভাবে পেতে চাইব।’’ ক্রিকেটারদের পেশাদারি মানসিকতার উপর আস্থা রাখতে চাইছেন ম্যাকডোনাল্ড। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের ক্রিকেটারেরা বেশ ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মেডিক্যাল এবং কোচিং স্টাফদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় ওরা। ক্রিকেটারেরা সব সময় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলাকেই গুরুত্ব দেয়। অ্যাশেজ়, টেস্ট বিশ্বকাপ ফাইনাল, এক দিনের বিশ্বকাপ— পর পর গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিযোগিতা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’
তা হলে কি আগামী আইপিএলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা কমবে? সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। ২০২৩ সালের উদাহরণ তুলে ধরেছেন তিনি। সে বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা এবং ধকল বিবেচনা করে কামিন্স, স্টার্ক, ট্র্যাভিস হেডেরা আইপিএল খেলেননি। লাল বলের ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সুফল পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজ়, টেস্ট বিশ্বকাপ এবং এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছিল। আবার তেমন ফল চান ম্যাকডোনাল্ড।